1. admin@dainikmuktoalonews24.com : দৈনিক মুক্ত আলো নিউজ ২৪ : দৈনিক মুক্ত আলো নিউজ ২৪
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ–সোনারগাঁ সিটি প্রেসক্লাবের উদ্বোধনে এমপি খোকা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন কিনলেন কোহিনূর ইসলাম (রুমা) বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া এর মৃত্যুতে এমপি খোকার শোক প্রকাশ নবনির্বাচিত আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চেয়ারম্যান মাসুমকে ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের শুভেচ্ছা সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটির নাঃজেলা কমিটি উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙ্গালীর নেতা নয়, তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর নেতা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ অনন্যা হুসাইন মৌসুমীর সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ২দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার জিএম কাদের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ায় এবং তার সুস্থতা কামনায় এমপি খোকার দোয়া মাহফিল চারজন মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ১

কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্তে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আর মাদক পাচার, ব্যবসায়ী ও সেবিদের অভয়ারণ্য

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ মে, ২০২২
  • ২৩ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মাদক সম্রাটদের আস্তানা কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং। এই উপজেলাটিতে মাদক পাচার, মাদক কারবার ও মাদক সেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে দিনদিন। অবৈধ মাদকের টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র ও রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় ক্রমেই বেপোরোয়া হয়ে পরেছে মাদক কারবারি সিন্ডিকেট। এই সীমান্ত এলাকার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কুমিল্লা- ঢাকা মহাসড়ক ও রেলপথের একটি বিশাল অংশ। মাদকের প্রধান বাজার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। বহিরাগত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা তো আছেই সেই সাথে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার তরুণ, কিশাের-কিশােরী ও যুবকরা দিন দিনই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। সহজ-লভ্য হওয়ায় জড়িয়ে পরছে মাদক কারবারেও। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচোড়া, চড়ানল, জগৎপুর, শংকুচাইল, বারেশ্বর ও লড়িবাগ, আনন্দপুর, ঘিলাতলী, নজুপুড়া, জামতলা সহ বিভিন্ন গ্রামে নিত্য নতুন মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে প্রতিদিনই। এরা বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় মদ, গাঁজা, স্কার্প, বিয়ার, ফেন্সিডিলের পাশাপাশি দেদারে বিক্রি করছে ইয়াবা। বুড়িচংয়ে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই নদীর স্রোতের মত প্রবেশ করছে মাদক। মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণীর অসাধু সীমান্তরক্ষী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে মদ, গাঁজা, বিয়ার, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা প্রকার মাদক ও ভারতীয় অবৈধ পণ্য ওপার থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। ফলে যুব ও তরুণ সমাজ মাদকের নীল নেশায় আসক্ত হয়ে দিন দিন ধ্বংসের দিকে পতিত হচ্ছে। সেই সাথে ঘটছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ও রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলােমিটার অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে ভারতী সীমান্ত লাগোয়া আনন্দপুর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর, কোদালিয়া, মিরপুর, শঙ্কুচাইল, হায়দ্রাবাদ, পাঁচোরা, চড়ানল, নবিয়াবাদ এসমস্ত গ্রামের ওপর দিয়ে ভারত থেকে আসা মাদকের চালান প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদক পাচারে নিত্য নতুন কৌশল এবং নারী মাদক কারবারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এর সামান্য কিছু আটক হলেও বেশীর ভাগ মাদকের চালান গোপনে পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে। চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন মাদক ও চোরা কারবারি। এদের মাধ্যমেই দেশে আসছে ইয়াবা সহ নানা জাতের মরন নেশা।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে জানা যায়, সীমান্ত গড়িয়ে এপারে আসা মাদকের বড় চালান উপজেলার কংশনগর, জগৎপুর, ময়নামতি সহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো করা হয়। পরে সময় সুযোগ বুঝে এম্বুলেন্স, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, পিকাপ সহ নানা পরিবহন পাঠানো হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলে সীমান্তের চিহ্নিত মাদক কারবারিরা গা-ঢাকা দিয়ে থাকে অথবা সীমান্ত পেড়িয়ে অবস্থান করে ভারতে। সীমান্ত এলাকার বড় বড় মাদক ডিলাদের অধিকাংশই ভারত বাংলাদেশের দৈত নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কষ্টস্বাধ্য হয়ে পরেছে।

এছাড়াও উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়ন এলাকায় রয়েছে প্রায় ডজন খানেক মাদকের ডিলার।
ময়নামতি ও মোকাম ইউনিয়ন এলাকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক ইয়াবা ডিলার সহ মাদক সম্রাটদের আস্তানা। তুলনামূলক ভাবে উপজেলার সবচেয়ে বড় মাদক কারবারি ও কারবারের ট্রানজিট পয়েন্ট হলো উপজেলার এই দুই ইউনিয়ন। বৃহৎ পাইকারি বাজারের অন্তরালে সীমান্ত থেকে আসা মাদকের বড় বড় চালান পৌঁছে যায় ঢাকা সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে। মাদক বিক্রির অবৈধ কালো টাকা ব্যবহার করে সরকার দলীয় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ভিন্ন ও বৈধ ব্যবসার সাইনবোর্ডের আড়ালে মাদক সহ নানা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী মাদক ডিলার সিন্ডিকেট।

প্রায় প্রতিদিনই মাদকসেবী ও কারবারির তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। অনুসন্ধানে জানা যায় গোটা উপজেলাজুড়ে মাদক কারবারির প্রকৃত সংখ্যা সহস্রাধিক। আর সীমান্ত লাগোয়া ১০৫ কি মি অংশের জেলা কুমিল্লায় এই সংখ্যা কত তা অনুমান করা কঠিন। জেলার বিভিন্ন থানার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত মাদক কারবারিদের যে তালিকা রয়েছে প্রকৃত সংখ্যা এর অন্তত দশ গুন হতে পারে ধারনা বিশ্লেষকদের।

সীমান্তের ঢিলেঢালা নজরদারি ও দায়িত্বরত কতিপয় অসাধু সদস্যদের যোগসাজশে মাদক পাচার ও কারবার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন সীমান্তে বসবাসকারীরা। সীমান্ত এলাকার সচেতন স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে পরছে। মাদকের সাথে সাথে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানিও বেড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। মাদক কারবারে জড়িতরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসার সাথেও জড়িত। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পবিত্র ঈদের দিন জেলা সদরের গেলাবাড়ি এলাকায় ঈদের জামাতে গোলাগুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। গত ১৩ এপ্রিল বুড়িচং হায়দ্রাবাদ সীমান্তে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যায় একাধিক আগ্নেস্ত্রের ব্যবহার করা হয়। এর আগে জেলার সদর দক্ষিণে র‌্যাবের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা ও গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাবের এক সদস্য। এছাড়া নগরীতে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ হত্যাকান্ডে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে প্রশাসনকেও। জেলায় সংগঠিত বেশির ভাগ অপরাধের সাথেই প্রত্যক্ষ বা পরোভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়। মাদক একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও সচেনত জনগণের প্রত্যাশা এর প্রসার ও পাচার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

তবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মনে করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 Dainik Mukto Alo News 24
Theme Customized By Theme Park BD